১৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার শপথ নিচ্ছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত ব্যক্তিরা। ওই দিন সকালে তাঁদের শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, আইন মন্ত্রণালয় ও সরকার গঠন করতে যাওয়া বিএনপির একাধিক সূত্র দ্য ডেলি গ্লোবাল নিউজ
গত বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পরদিন গতকাল শুক্রবার রাতে নির্বাচনে বিজয়ীদের গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইতিমধ্যে জাতীয় সংসদ সচিবালয় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। সাধারণত জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে এ শপথ অনুষ্ঠান হয়ে থাকে।
জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা আজ শনিবার সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, আপাতত ১৭ তারিখ শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোট গ্রহণ হয়। পরদিন গতকাল ২৯৭ আসনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করে ইসি। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা থাকায় চট্টগ্রাম–২ ও ৪ আসনের ফলাফলের গেজেট এখন জারি করা হয়নি।
নির্বাচনে ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি ২০৯টিতে জয় পেয়েছে। ফল ঘোষণা স্থগিত থাকা দুটি আসনেও বিএনপির প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন। বিএনপির শরিকেরা পেয়েছে তিনটি আসন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের অন্য শরিকেরা পেয়েছে ৯টি আসন।
আর প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ও বিএনপির সূত্র দ্য ডেলি গ্লোবাল নিউজ কে জানায়, মঙ্গলবার বিকেলে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হবে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায়। সাধারণত মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ বঙ্গভবনের দরবার হলে অনুষ্ঠিত হওয়ার রেওয়াজ।
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এমপিদের শপথ পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। আর মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন। এই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ভারত, চীন, পাকিস্তানসহ ১৩ দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের পর নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী দল তাদের সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচন করবে। এর পর সংসদীয় দলের নেতা রাষ্ট্রপতির কাছে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন হওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবেন। রাষ্ট্রপতি তখন তাঁকে নিয়ম অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগ দেবেন এবং নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের আহ্বান জানাবেন।
সংবিধানের ১৪৮ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিদায়ী স্পিকার নতুন এমপিদের শপথ পাঠ করাবেন। গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করেন। সংবিধান অনুযায়ী, পদত্যাগ করলেও তিনিই স্পিকার হিসেবে শপথ পড়ানোর কথা। বিগত সংসদের ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু কারাগারে আছেন। তিনি এখনও পদত্যাগ করেননি। সংবিধানের ১৪৮ (২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, স্পিকারের মনোনীত কোনো ব্যক্তির কাছেও এমপিরা শপথ নিতে পারবেন।
১৪৮ (২ক) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে যদি স্পিকার বা তাঁর মনোনীত ব্যক্তি সংসদ সদস্যদের শপথ না পড়ান, তাহলে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পড়াবেন। এই বাস্তবতায় নির্বাচিত এমপিদের গেজেট প্রকাশের তিন দিন পর আগামী মঙ্গলবার শপথ পড়াবেন সিইসি।
মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ
দীর্ঘদিনের রীতি ভেঙে নতুন সরকারের শপথ বঙ্গভবনের বাইরে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। আইন মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, মঙ্গলবার
সন্ধ্যায় নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন।
ভারত, চীন, পাকিস্তানসহ ১৩ দেশকে আমন্ত্রণ
বিএনপির নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ১৩ দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। কূটনৈতিক সূত্রে জানা যায়, এখন পর্যন্ত আমন্ত্রণ পাওয়া দেশের তালিকায় রয়েছে ভারত, চীন, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ, ভুটান, তুরস্ক ও ব্রুনেই।
নতুন মন্ত্রীদের জন্য প্রস্তুত গাড়ি ও বাসভবন
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, নতুন সরকারের মন্ত্রীদের শপথের জন্য তারা প্রস্তুতি নিয়েছেন। নতুন মন্ত্রীদের জন্য গাড়ি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মন্ত্রীদের বাসভবন প্রস্তুত রাখছে সরকারি আবাসন পরিদপ্তর।



