দেশের পরিবর্তে নিজেকে বদলিয়েছেন অনেক নেতা
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, কেউ যদি বলেন দেশে কোনো উন্নয়ন হয়নি, আমি তার সঙ্গে একমত নই। তবে এটুকু স্পষ্ট করে বলতে চাই উন্নয়নের যে সম্ভাবনা ছিল অতীতে যারা দেশ পরিচালনা করেছেন তারা সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারেননি। দেশ বদলে দেওয়ার পরিবর্তে অনেক নেতা নিজেদের বদলিয়েছেন। গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) ইফতার মাহফিলে বক্তব্য প্রদানকালে এসব কথা বলেন তিনি। জামায়াত আমির বলেন, আমার চেয়ে দল বড়, দলের থেকে দেশ বড়- এটি যদি সত্যিই রাজনীতির স্লোগান হয়ে থাকে তাহলে দেশের স্বার্থই বড় করে দেখার কথা ছিল তাদের। কিন্তু বাস্তবে রাজনৈতিক নেতারা তাদের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এর প্রমাণ তুলে ধরতে পারেননি। সাংবাদিকদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, গণমাধ্যমে যারা রয়েছেন তাদের বুক টান করে দাঁড়ানো দরকার। আপনারা আমাদের কর্মকান্ডের প্রশংসা করবেন কি না জানি না, তবে সমালোচনা করতে ভুলে যাবেন না। এক্ষেত্রে সবকিছুর ঊর্ধ্বে দেশের স্বার্থকে বিবেচনায় রাখতে হবে। তাহলে এই সমালোচনা আমাদের সংশোধনে সাহায্য করবে। তিনি বলেন, আপনারা সাদাকে সাদা আর কালোকে কালো বলার যে পবিত্র দায়িত্ব নিয়ে এই অঙ্গনে এসেছেন অন্যদের বেলায় না করলেও আমাদের বেলায় তা করবেন। কারণ আমরা কেউই ভুলের ঊর্ধ্বে নই। কারণ ব্যক্তি বা দল কেউই দাবি করতে পারবে না যে, তারা ভুলের ঊর্ধ্বে। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। বক্তব্যে তিনি বলেন, আমার জীবনে কখনো জাকাত ও ইনকাম ট্যাক্সে ফাঁকি দিইনি। তারপরও আয়কর মামলায় ১১ বছর সাজা হয়েছিল আমার। তিনি আরও মন্তব্য করেন, সাংবাদিকরা তাদের ইচ্ছামতো লিখতে পারেন না। কারণ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আছে; তবে সাংবাদিকদের স্বাধীনতা নেই। অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিমসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আবু সালেহ আকনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মাইনুল হাসান সোহেল।